1. ajkerfaridpur2020@gmail.com : Ajker Faridpur : Ajker Faridpur
  2. jmitsolution24@gmail.com : support :
  3. info.jmitsolution@gmail.com : Support Team : Support Team
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৯ অপরাহ্ন
নোটিশ বোর্ড :
আজকের ফরিদপুর নিউজ পোর্টালে আপনাদের স্বাগতম । করোনার এই মহামারীকালে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। সচেতনে সুস্থ থাকুন।
শিরোনাম :
চৌধুরী নায়াব ইউসুফের উদ্যোগে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প বিএপির পদ পেয়েই বদলে গেছে স্বামী! অজ্ঞাত যুবকের ছয় খন্ড মরদেহ উদ্ধার ফরিদপুরে নিখোজের দুই দিনপর নারীর লাশ উদ্ধার, পরিবারের দাবী হত্যা আদালত চত্ত্বরে স্বামী হত্যার বিচারের দাবিতে কাঁদলেন স্ত্রী দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে ফরিদপুরে সেনাবাহিনীর মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুলের যাত্রা শুরু দীর্ঘ দুই বছর পর ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওটি চালু ফরিদপুরে মাদক মামলায় একজনের যাবজ্জীবন আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে ফরিদপুরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ফরিদপুর পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার উদ্যোগ

চালের দাম স্থিতিশীল রাখতে করণীয়

  • Update Time : শনিবার, ১১ জুন, ২০২২
  • ৯৮২ জন পঠিত
চালের দাম স্থিতিশীল রাখতে করণীয়
চালের দাম স্থিতিশীল রাখতে করণীয়

বাংলাদেশে বর্তমানে চালের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেশি। এ বছরও চাল উৎপাদন ভাল হয়েছে। বর্তমানে বোরো ধান কাটা, ফিরে আসি চালে। সাধারণ মানুষ যে চাল খায় সেই চালের বিষয়ে আলোকপাত করছি। যেমন ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ ধান। ব্রি-২৯ ধান তুলনামূলকভাবে ব্রি-২৮ থেকে হেক্টর প্রতি ফলন প্রায় ১ টন বেশি হয়। ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ ধানের মূল্য বর্তমান সময়ে ১৮ থেকে ২২ শতাংশ আর্দ্রতায় কৃষক পর্যায়ে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা মণ থাকে। ১৪ বা ১৫ শতাংশ আর্দ্রতায় ৯০০ টাকা মণ হলে কৃষকদের নিশ্চিত লাভ হয় এবং তাদের সন্তুষ্ট থাকার কথা। আবার যা জিরাশাইল বা মিনিকেট সুপার হিসেবে বিক্রি হয় তা এই ধান কাটার মৌসুমে ১৪% আর্দ্রতায় ১১০০ টাকা মণের বেশি হয় না, যা এখন ১৪৫০ থেকে ১৫০০ টাকা মণে বিক্রি হচ্ছে। মিলারদের ধান ভাঙ্গার খরচ সাধারণত তুষ, খুদ ও অন্যান্য বাইপ্রোডাক্ট থেকে উঠে যায়।

এর অর্থ ব্রি-২৮ বা ব্রি-২৯ ধান যদি ৯০০ টাকা মণ হয়, হিসাব অনুযায়ী এক মণ ধান থেকে ২৬ কেজি চাল হয়, তাহলে উৎপাদন খরচ হওয়া উচিত ৩৪.৬১ টাকা অথবা ৩৫ টাকা। কেজিতে ১ টাকা লাভ ধরলে মিল গেটে ব্রি-২৮ বা ব্রি-২৯ চালের দাম হওয়ার কথা ৩৬ টাকা প্রতি কজি। আর জিরাশাইল বা সুপার মিনিকেট হিসেবে পরিচিত ১১০০ টাকা ধানের মণ হিসেবে প্রতি মণে ২৬ কেজি উৎপাদন ধরলে চালের মূল্য হয় ৪২.৩০ টাকা প্রতি কেজি। ১ টাকা কেজি প্রতি লাভ ধরলে মিল গেটের মূল্য হওয়া উচিত ৪৩.৩০ টাকা প্রতি কেজি চাল। এই চাল সাধারণ মানুষের কাছে ন্যায্যমূল্যে পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রয়োজন সরকারের তত্ত্বাবধানে ধান উৎপাদন থেকে বিতরণ পর্যন্ত একটি ঊভভরপরবহঃ ঝঁঢ়ঢ়ষু ঈযধরহ তৈরি করা। এই ঝঁঢ়ঢ়ষু ঈযধরহ-এর মাধ্যমেই সঠিক ভ্যারাইটির চাল ভোক্তার কাছে সুলভ মূল্যে পৌঁছানো সম্ভব।

তবে বাস্তবতার নিরিখে পর্যালোচনা করলে সরকারের পক্ষে ঊভভরপরবহঃ ঝঁঢ়ঢ়ষু ঈযধরহ প্রতিষ্ঠা যেমন সম্ভব হয়নি অতীতে, তেমনি ভবিষ্যতেও যে হবে না তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়। এর জন্য প্রয়োজন পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ (চচচ)। ঝঁঢ়ঢ়ষু ঈযধরহ এ বিষয়ে বিস্তারিত লেখার আগে একটু পেছন থেকে ঘুরে আসা প্রয়োজন। আমি ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের ফার্মে সফলভাবে ট্রেতে অটোমেটেড পদ্ধতিতে ধানের চারা উৎপাদন করে ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে ধানের চারা রোপণ করি। মাঠ তৈরি থেকে শুরু করে হারভেস্টিং পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটা সম্পন্ন করে আধুনিক প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকায়নের সমন্বয়ে ধান উৎপাদন প্রক্রিয়া সহজীকরণ, উৎপাদন বৃদ্ধি করে কৃষিতে একটা বিপ্লব ঘটানোর প্রচেষ্টা ছিল এতে। এর মধ্য দিয়ে প্রান্তিক কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও চালের উৎপাদন খরচ কম করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দূরদৃষ্টির অভাব এবং লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের কারণে একজন সাধারণ কৃষক হিসেবে আমার স্বপ্ন পূর্ণতা পায়নি।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইন-ব্রেড ও হাইব্রিড ধানের ওপর বিদেশী বিজ্ঞানীদের সহায়তায় অনেক বছর কাজ করার সুবাদে সাপ্লাই চেন প্রতিষ্ঠার জন্য বিএডিসিকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম। যেহেতু তাদের ম্যান্ডেটে মার্কেটিং-এর কথা বলা আছে। সাপ্লাই চেন প্রতিষ্ঠার জন্য দুটি প্রস্তাব দিয়েছিলাম বিএডিসিকে। কারণ, একটি অপরটির সম্পূরক। প্রথমটি হচ্ছে যে সার সরকার আমদানি করে এবং হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয় তার বিতরণ ব্যবস্থার মধ্যে স্বচ্ছতা আনা। বর্তমানে যে সার আমদানি হয় তা প্রাইভেট কোম্পানিগুলোকে অনুমতি দেয়া হয় আমদানি করার জন্য, যা বিক্রির দায়িত্ব বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের। আমদানিকৃত সার দেশে আসার পর তা বস্তায় ভরা হয় এবং বিএডিসির বিভিন্ন গুদামে মজুদ করা হয়। তবে কোন্্ গুদামে কি পরিমাণ সার আছে তা আদিম পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রণ করার কারণে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে সারের মজুদ ও বিতরণ সম্পর্কে জানতে হলে সময়ের প্রয়োজন হয়। তাছাড়াও সার নির্দিষ্ট গুদামে ঢুকছে কিনা তা জানারও কোন উপায় নেই।

আমার প্রস্তাব ছিল সার আমদানির পর মোড়কজাতের সময় প্রতিটি বস্তায় বারকোড দেয়া হবে, যেন বারকোড দেয়া বস্তা নির্ধারিত গুদামে গিয়েছে কিনা এবং কত বস্তা ডিলারের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকের কাছে পৌঁছেছে তা জানা। তাতে সম্পূর্ণ বিতরণ ব্যবস্থা এবং প্রান্তিক কৃষকের তথ্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা অধিদফতরে কম্পিউটারের একটি বোতাম টেপার মাধ্যমে জানতে পারবে। প্রস্তাবে আরও উল্লেখ ছিল, সারাদেশের কৃষকদের ডাটাবেজ তৈরি হবে, যার মাধ্যমে কোন্্ কৃষকের কতটুকু জমি আছে, এবার সে কি ফসল ফলাবে তা যেমন জানা যাবে, তেমনি তার জমিতে যেটুকু সার প্রয়োজন শুধু সেটুকু সার প্রান্তিক কৃষক ক্রয় করতে পারবে। এর কারণে যেমন ভর্তৃকি দেয়া সারের সঠিক বিতরণ নিশ্চিত করা সম্ভব, তেমনি কোন্্ কৃষকের জমিতে কি ফসল হয়েছে তা সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর বা মন্ত্রণালয়ের কাছে তথ্য থাকবে। সম্পূর্ণ Outsourcing–এর ভিত্তিতে দেয়া প্রস্তাবটি বিএডিসির বোর্ড অনুমোদন দিলেও তা কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিমাঘারে চলে যায়।

সাপ্লাই চেনের প্রস্তাবটি দেয়া হয়েছিল তৎকালীন বিএডিসির চেয়ারম্যান এবং বর্তমান কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর। প্রস্তাব অনুযায়ী বিএডিসির Contract Growers-এর মাধ্যমে ধান উৎপাদন করা, যার অর্থায়ন করবে চচচ এর অধীনে প্রাইভেট কোম্পানি। চচচ অংশীদার প্রাইভেট কোম্পানি দুই পক্ষের তত্ত্বাবধানে যথাযথভাবে মিলিং করে চচচ কোম্পানির যৌথ ব্র্যান্ডে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে বিতরণ করবে। এর মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, ধানের Varital Purity Maintain ও সুলভ মূল্যে ভোক্তার কাছে চাল পৌঁছে দেয়া সম্ভব। এই Efficient Supply Chain  সৃষ্টির মাধ্যমেই চালসহ কৃষিপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব। এ বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ মহল দৃষ্টি দিলে বাংলাদেশে এমন অনেক সৎ, তরুণ দেশপ্রেমিক উদ্যোক্তা আছেন যারা আমার বিশ্বাস নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য নিয়ে অতি মুনাফালোভীদের সব অসাধু প্রচেষ্টা নস্যাত করে দিতে পারে।

লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকে ভূষিত- শাহদাব আকবার চৌধুরী লাবু

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© পদ্মা বাংলা মিডিয়া হাউজের একটি প্রতিষ্ঠান
Design & Developed By JM IT SOLUTION