
নিহত কৃষক ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের চরঅমরাপুর গ্রামের বাসিন্দা। গত ৩ আগস্ট ভোরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে। এ ঘটনায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের স্ত্রী ডালিয়া বেগম। পরে এ মামলায় ৪ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মানববন্ধনে নিহতের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন- ‘আমার স্বামীকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ এখনও তিনজন আসামীকে ধরে নাই। আমার স্বামীরে যারা তিলে তিলে মারছে আমি তাঁদের ফাঁসি চাই।’

মানববন্ধনে স্থানীয়রা জানান, ইউসুফ আলী শেখ হত্যার প্রায় এক মাস আগে আসামী শামীমের মা আসমা বেগম নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় পুলিশ নিহত ইউসুফসহ ৬ থেকে ৭ জনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। এর জের ধরে গত ১ আগস্ট সন্ধ্যায় ইউসুফ আলী শেখকে ডেকে নিয়ে দুর্গম চর এলাকায় নিয়ে নির্যাতন করা হয় এবং তাঁকে বিষ খাইয়ে দেয়া হয়। পরে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ০৩ আগস্ট ভোররাতে মৃত্যু হয়। মারা যাওয়ার পূর্বে তিনি একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে জড়িতদের নাম বলে যান। তাঁর বলে যাওয়া সাত জনকে আসামী করে মামলা করা হয়।
এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করলেও বাকি তিনজনকে এক মাস ৬ দিনেও গ্রেফতার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা শাখাওয়াত হোসেন বলেন- ‘আদালত চত্বরে দাড়ানের মূল উদ্দেশ্য আসামীদের যেন জামিন না হয় এবং মাননীয় বিচারক যেন তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত ফাঁসির রায় ঘোষণা করে। এছাড়া চরভদ্রাসন থানার ওসিকে অনুরোধ জানাই বাকি তিনজনকে দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য।’
এদিকে থানা সুত্রে জানা যায়, মামলা দায়েরের পর রাতেই অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় ৪ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে রয়েছে- নিখোঁজ নারী ও সত্তার শেখের ছেলে শামীম হোসেন (২৫) ও মেয়ে ইয়াছমিন আক্তার (৩৪), পাশ্ববর্তী ওকেল মাতুব্বরের ডাঙ্গী এলাকার আক্কাস মোল্যা (৬০) ও ছেলে জুলহাস মোল্যা (৩৫)।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চরভদ্রাসন থানার উপ-পরিদর্শক এনামুল হক বলেন- এ মামলায় তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চারজনকে এরই ম্যেধ গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি তিনজন আসামীকে গ্রেফতারের জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। #