ফরিদপুর প্রতিনিধি :
ফরিদপুরে এক নারীর মাতৃত্বকালীন ভাতা নিয়ে ইউপি সদস্য মো. নান্নু মোল্যার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে দাবী করে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিশোধ কার্যালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে ইউপি সদস্য মোঃ নান্নু মোল্লা দাবি করেন, ওই নারী তাঁর (ইউপি সদস্য) নিকটাত্মীয় এবং মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রাপ্তির আবেদনের সময় টেকনিক্যাল ত্রুটির কারনে তার (নারির) ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর যুক্ত করতে না পারায় এবং ওই মুহূর্তে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের নিজস্ব বিকাশ নম্বর না থাকায় ও আবেদনের শেষ কার্য দিবস থাকায় ইউপি সদস্যের বিকাশ নম্বর যুক্ত করে দেন ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা। পরবর্তীতে ইউপি সদস্যের বিকাশ নম্বরে প্রথম দফায় টাকা আসে, যা তিনি ওই নারীর ব্যাংক হিসাবের নম্বরে জমা দিয়ে দেন। অতঃপর ওই ব্যাংক হিসাব সুবিধাভোগীর ফাইলের সাথে যুক্ত করতে সমর্থ হলে পরবর্তীতে সুবিধাভোগীর নিজস্ব ব্যাংক হিসাবের নম্বরেই টাকা জমা হতে থাকে।
সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের দাবি, এই বিষয়টিকে পুঁজি করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নানা অপপ্রচার চালাচ্ছেন যা সামাজিকভাবে তার সম্মান ক্ষুন্ন হচ্ছে।
এ সময় উপকারভোগী নারী সহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সুবিধাভোগি রুপা আক্তার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে ব্যাংক হিসাব নম্বর প্রথম দিকে যুক্ত করা যাচ্ছিল না, যা পরবর্তীতে উপজেলা সদরে উপস্থিত হয়ে যুক্ত করতে সামর্থ্য হন তিনি। তিনি জানান ঐদিন আবেদনের শেষ কার্যদিবস থাকায় আত্মীয় এবং ইউপি সদস্য নান্নু মোল্লার নম্বর জুড়ে দেয়া হয়েছিলো। তিনি ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হননি বলে দাবি করেন সাংবাদিক সম্মেলনে।
উদ্যোক্তা ওমর ফারুক বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সুবিধাভোগী যাতে বঞ্চিত না হন তাই ইউপি সদস্যের নম্বর তাৎক্ষণিকভাবে যুক্ত করে দেয়া হয়েছিলো। ২৮ জুনওই নারীর হিসাব নম্বর যুক্ত করা হয়েছে। তিনি নিয়মিত ভাতা পাচ্ছেন সেই নম্বরেই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান একেএম বাদশা মিয়া বলেন- “ঘটনাটি আমি জানার সাথেই ভোক্তার সাথে আমি যোগাযোগ করি। সে আমাকে জানায়- সব টাকা তাকে ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং সংশোধন করে তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়ে ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। টেকনিক্যাল ত্রুটির কারনেই এই সমস্যাটি হয়েছে৷ তারপরও আমি সকলকে সতর্ক করে দিয়েছি- এ ধরনের অনিচ্চাকৃত ভুলও করা যাবে না।” #