মোঃ সরোয়ার হোসেন,ভাঙ্গা : ১৯৭১ সালে পাক হানাদাররা দেশের বিভিন্ন এলাকায় নীরিহ মানুষের উপর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়। স্বাধীনতার বজ্রনিশান উড়িয়ে মুক্তিসেনারা যখন যখন ্এগিয়ে চলেছে সারা দেশের ন্যায় একে একে শত্রæমুক্ত হয়ে পড়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা ও আশপাশের এলাকা। পাকবাহিনীর হাতে হত্যাযজ্ঞের শিকার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নিহতদের গনকবরগুলো সংরক্ষনের অভাবে স্মৃতিচিহ্নগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। ১৯৭১ সালে সারা দেশের ন্যায় মুক্তিপাগল দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্বাদের সাড়াশি আক্রমনে দিশেহারা হয়ে পড়ে হানাদার পাক বাহিনী ও তার দোসর রাজাকাররা।
ছত্রভঙ্গ হয়ে তারা ভাঙ্গা থানায় স্থাপিত তাদের সেনাক্যাম্প ছেড়ে ভাঙ্গা কুমার নদীর ব্রীজ পার হয়ে ফরিদপুরের দিকে পালিয়ে যায়।অসীম ত্যাগ আর রক্তশ্নাত বিজয় নিশান উড়িয়ে মুক্তিসেনারা ভাঙ্গা উপজেলাকে মুক্ত করে।কিন্ত ভাঙ্গা উপজেলাকে মুক্ত করলেও পাক হানাদাররা রেখে যায় হত্যা,ধর্ষণ আর নারকীয় নির্যাতনের চিত্র।আজও কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে এর স্মৃতিচিহ্ন।এর মধ্যে উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের বিবিরকান্দা গ্রামের তৎকালীন আওয়ামীলীগ নেতা মাহতাব উদ্দিন লস্কর,ডাঃ শাহজাহান সহ একই পরিবারের ৩ জনসহ বেশ কয়েকজনকে তৎকালীন রাজাকার কমান্ডার জাকারিয়া খলিফার সহায়তায় ভাঙ্গা বাজার বর্তমান ভ’মি অফিসের পাশে এনে নির্মমভাবে বেয়নেট দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। ওই স্থানে নির্মিত হয়েছে একটি স্মৃতিস্থম্ভ।
এছাড়া ভাঙ্গা পৌরসদরের চন্ডিদাসদি গ্রামে গনহত্যা চালিয়ে হত্যা করা হয়, অন্তত ৩২জন –জন নীরিহ গ্রামবাসীকে। একই কায়দায় তুজারপুর ইউনিয়নের জান্দি গ্রামে রাজাকার ইমদাদুল হক ইঙ্গুল কাজীর সহায়তায় কয়েকজনকে ধর্ষনের পর হত্যা করা হয় নারী-পুরুষ সহ ৪০ জন নীরিহ লোককে। এছাড়া ভাঙ্গা উপজেলাকে বিভক্তকারী দীগনগর সেতুর দু,পাড়ে মুক্তিযোদ্বা,পাক বাহিনী এবং তাদের দোসর রাজাকারদের মধ্যে সংঘটিত হয় একটি ভয়ানক সংঘর্ষ। লড়াইয়ে শহীদ হন ১১ জন বীর মুক্তিযোদ্বা।
কিন্ত তাদের স্মরনে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভটি নাম ফলক উঠে অযতœ অবহেলায় পড়ে আছে। শহীদ পরিবারের সদস্য ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের বিবির কান্দা গ্রামের বাদল মুন্সী সেদিনের ভয়াল স্মৃতি স্মরন করে বলেন,সেদিনের কথা মনে পড়লে গা শিহরে উঠে। চোখের সামনে আমার বাবা,মামা,ভাইকে ধরে নিয়ে বর্তমান ভ’ুিম অফিস সংলগ্ন রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ গুলো মাটিচাপা দিয়ে রাখে। বীর মুক্তিযোদ্বা দিনগুলোর স্মৃতি স্মরন করে বীর মুক্তিযোদ্বা মিয়ান আঃ ওয়াদুদ বলেন, পাক বাহিনী ও রাজাকাররা সারা দেশের ন্যায় নারকীয় হত্যাকান্ড চালায়।চুড়ান্ত পর্যায়ে মুক্তিযোদ্বারা চারদিক থেকে প্রতিরোধ করার পর পাকবাহিনী ভাঙ্গা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
তিনি বলেন,শহীদদের স্মৃতি এবং গনকবরগুলোর স্মৃতি রক্ষার্থে নেয়া হয়নি তেমন কোন উদ্যোগ। অযতেœ অবহেলায় পড়ে আছে ৭১ এর স্মৃতিবিজড়িত সেই স্থানগুলো। এ ব্যাপারে বীর মুক্তিযোদ্বা আঃ আজিজ টুকু মোল্লা বলেন, ভুরঘাটা যুদ্ব সহ বেশ কয়েক জায়গায় পাক বাহিনী পরাজিত হয়ে ব্যাপক হতাহতের শিকার হয়। পরে ক্ষিপ্ত হয়ে ভাঙ্গার চন্ডিদাসদি গ্রামে হত্যাযজ্ঞ চালায়। এ ব্যাপারে উপজেলার নির্বাহী অফিসার আজিম উদ্দিন বলেন, বধ্যভুমিগুলো দ্্রুতই সংরক্ষনের ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যাতে ভবিষ্যত প্রজন্ম তাদের সম্পর্কে জানতে পারে।