ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
পথহারা জসীমউদ্দিন কিরণ (৫৫) নামের এক বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীকে নিয়ে মো. জিয়ারুল ইসলাম নামে পুলিশের এক পরিদর্শক তার নিজ ফেসবুক আইডিতে থেকে পোস্ট করার পর মুহূর্তের মধ্যে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। পরে আপন ঠিকানা খুঁজে পান পথহারা বাকপ্রতিবন্ধী ওই বৃদ্ধ। ফেসবুকে পোস্ট করা পুলিশ পরিদর্শক মো. জিয়ারুল ইসলাম ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে কর্মরত।
জানা যায়, জসীমউদ্দিন কিরণের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার সোনাপুর গ্রামে। সে ওই গ্রামের সামচুল হকের ছেলে। চট্রগ্রামে আবুল খায়ের গ্রুপের একটি ফ্যাক্টরিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। চট্টগ্রামের ওই ফ্যাক্টরি থেকে ৭-৮ মাস আগে একটি বাসে করে নোয়াখালী জেলার নিজ বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দেন। পথেমধ্যে ঘুমিয়ে গেলে ঢাকায় তাকে নামিয়ে দেন বাসের হেলপার। পরে অন্য একটি বাসে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় চলে আসেন। দীর্ঘদিন ভাঙ্গায় ঘুরাফেরা করার পর এক সংবাদকর্মীর মাধ্যমে ওসির নজরে আসেন তিনি। কিন্তু, জসীমউদ্দিন কিরণ বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তার নাম-ঠিকানা কিছুই বলতে পারেননি ওসিকে। কিন্তু, পরবর্তীতে ওসি তাঁর ছবি দিয়ে নিজ ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। মুহূর্তেই ভাইরাল হয় পোস্টটি। পরবর্তীতে পোস্টটি দৃষ্টিগোচর হয় বাকপ্রতিবন্ধী কিরণের পরিবারের। অতঃপর ওই পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করেন ওসি জিয়ারুলের সাথে। ওসি নিজ খরচে গাড়িতে করে শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে ওই বাকপ্রতিবন্ধীর নিজ বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার সোনাপুর গ্রামে পাঠান। পরিবার একইদিন রাত ১০ টায় তাকে হাতে পান।
এব্যাপারে পথ হারানো ওই প্রতিবন্ধীর ছোট ভাই শহিদুল ইসলাম বলেন, ওসির এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে আমার ভাই জসীমউদ্দিন কিরণের সন্ধান পাই। পরে ওসির সাথে যোগাযোগ করে দীর্ঘ ৭- ৮ মাস পর আমার ভাইকে খুঁজে পেলাম। এরকম মানবিক কাজ ও তার ভাইকে সন্ধানের ব্যবস্থা করায় ওসিকে তিনি ধন্যবাদ জানান।
শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা তিন ভাই ও দুই বোন। সে ভাইয়ের মধ্যে মেঁজো। তার বাবা সামচুল হক বেঁচে নেই। কয়েকবছর আগে তার স্ত্রী তাকে (জসীমউদ্দিন কিরণ) রেখে চলে গিয়েছেন। পরে জীবিকার তাগিদে চট্টগ্রামে আবুল খায়ের গ্রুপের একটি ফ্যাক্টরিতে ওয়ার্কার হিসেবে কাজ করতেন সে। ৭-৮ মাস আগে সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন তিনি। পরে তাকে বিভিন্ন জায়গায় সন্ধান করেও খোঁজ পাইনি। দীর্ঘদিন খোঁজ না পাওয়ায় সে হয়তো মারা গিয়েছেন বলে ধারণা করেছিলেন পরিবার। এভাবে তার ভাইয়ের সন্ধান পাওয়ায় আবেগে আপ্লূত হয়ে পড়েন তারা।
এব্যাপারে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়ারুল ইসলাম বলেন, মানুষ মানুষের জন্য। তাইতো, মানুষের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোটা দায়িত্ব মনে করি। এর আগেও অসংখ্য মানবিক কাজের অংশীদার হতে পেরেছি। ওই বাক ও শ্রবণ প্রতবন্ধী জসীমউদ্দিন কিরণকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। আমি নিয়মিত তার খোঁজ খবর রাখছি। যে কোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার চেষ্টা করছি। #