1. ajkerfaridpur2020@gmail.com : Ajker Faridpur : Ajker Faridpur
  2. jmitsolution24@gmail.com : support :
  3. info.jmitsolution@gmail.com : Support Team : Support Team
বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪৩ অপরাহ্ন
নোটিশ বোর্ড :
আজকের ফরিদপুর নিউজ পোর্টালে আপনাদের স্বাগতম । করোনার এই মহামারীকালে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। সচেতনে সুস্থ থাকুন।
শিরোনাম :
অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবুর ফরিদপুরের বাড়ীতে চুরি শহীদ জিয়ার খনন করা ফরিদপুরের জিয়া খাল ও সুতানালী খাল দখলমুক্ত করে পুনঃখননের দাবী পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত তিন ফরিদপুরে বিএনপি নেতার উদ্যোগে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মিললো ১৪ বছর পর রায় : ফরিদপুরে সবজি বিক্রেতাকে হত্যায় তিনজনের মৃত্যুদন্ড মাদক খুঁজতে গিয়ে অস্ত্রের সন্ধান পেলো র‌্যাব, পাঁচ আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক পাঁচ মধুখালীতে বাথরুমে স্ল্যাবের নিচে বস্তাবন্দি নারীর কঙ্কাল উদ্ধার ফরিদপুরের ভূমি কর্মকর্তার গুনে গুনে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল সনাতনীরা এদেশে মাথা উচু করে চলাফেরা করবে -উল্টো রথযাত্রার উদ্বোধনে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ এমপি ফরিদপুরে ১২ দলীয় ফুটবলের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

ফলোআপ : ‘দাফন’-এর পাঁচদিন পর উদ্ধার হওয়া হাসি পরকীয়ার জেরেই ঘর ছেড়েছিলেন

  • Update Time : বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
  • ৪৯৪ জন পঠিত
ফলোআপ : ‘দাফন’-এর পাঁচদিন পর উদ্ধার হওয়া হাসি পরকীয়ার জেরেই ঘর ছেড়েছিলেন
ফলোআপ : ‘দাফন’-এর পাঁচদিন পর উদ্ধার হওয়া হাসি পরকীয়ার জেরেই ঘর ছেড়েছিলেন

স্টাফ রিপোর্টার : ফরিদপুরের সদরপুরের হাসি বেগম (২৪) পরকীয়ার টানে স্বামী, সন্তান ফেলে ঘর ছেড়েছিলেন। চলে গিয়েছিলেন ময়মনসিংহের নান্দাইলে প্রেমিকের কাছে। গত সোমবার তাকে উদ্ধার করে সদরপুর থানার আনা হয় তাকে। স্বামীর কাছে ফিরে না যাওয়ায় বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে বাবার কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি অর্ধ গলিত যে মৃতদেহটি হাসি বেগম হিসেবে সনাক্ত করে দাফন করা হয় সে ব্যাপারে ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল বুধবার কলাল ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত সরেজমিনে হাসি বেগমের বাড়ি এবং সদরপুর থানায় স্বজন ও পুলিশের সাথে আলাপ করে জানা গেছে এ তথ্য। হাসি বেগম সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের শৌলডুবী গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ে।

১০ বছর আগে পারিবারিক ভাবে তাঁর বিয়ে হয় উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বড় বাড়ির মৃত শাহ আলম শেখের ছেলে মোতালেব শেখের সঙ্গে। তাদের মুরসালিন নামে সাত বছরের এক ছেলে রয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর হাসি বেগম বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার কথা বলে শ্বশুর বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় হাসি বেগমের বাবা শেখ হাবিবুর রহমান গত ১১ সেপ্টেম্বর সদরপুর থানায় একটি অভিযোগ করেন। পরবর্তিতে হাসি বেগমের স্বামী গত ১৪ সেপ্টেম্বর থানায় আরেকটি অভিযোগ করেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সদরপুর উপজেলা সংলগ্ন ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের আদমপুর এলাকার নাউটানা এলাকায় কচুরিপানার ভেতর থেকে এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনাস্থলে এসে হাসি বেগমের বাবা শেখ হাবিবুর ও মা সালমা বেগম মৃতদেহটি তার মেয়ের নয় বলে জানান। ভাঙ্গা থানার পুলিশ মৃতদেহটি ভাঙ্গা থানায় নিয়ে যান। পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর হাসি বেগমের বাবা ও ফুপু নিহারণ বেগম পায়ের আঙ্গুর ছোট ও গলায় কবজ আছে দেখে মৃতদেহটি হাসি বেগমের বলে সনাক্ত করেন। ময়না তদন্তের পর পুলিশ মৃত দেহটি হাসি বেগমের বাবার হাতে তুলে দেন গত ২৩ সেপ্টেম্বর। ওই দিন সন্ধ্যার শৌলডুবী মদিনাতুল কবরস্থানে ওই মরদেহ দাফন করা হয়। গত ২২ সেপ্টেম্বর হাসি বেগমের বাবা শেখ হাবিব বাদী হয়ে (৪২) আসামি করে সদরপুর থানায় ‘পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে লাশ গুম করার ‘অভিযোগে হাসি বেগমের স্বামী মোতালেব শেখকে আসামি করে একটি মামলাদায়ের করেন। এ ঘটনার পর মোতালেবকে আট করে পুলিশ।

তবে গত ২৫ সেপ্টেম্বর হাসি বেগমকে উদ্ধারের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এদিকে ২৩ সেপ্টেম্বর হাসি বেগম সন্দেহে মৃতদেহটি দফন করে থানায় আসেন হাসি তার বাবার ফোনে ফোন করে জানায় তিনি বেঁচে আছেন এবং নিজের ইচ্ছায় প্রেমের টানে বাড়ি ছেড়েছেন। হাসি বেগম জানায় তিনি এক তরুণকে বিয়ে করেছেন। ফোনটি হাসির কিনা নিশ্চিত হওয়ার জন্য হাসির মেঝ ভাই শাকিবের (২০) ফোনে ভিডিও কল করে। হাসির বাবা শেখ হাবিবুর জানায়, ছবি দেখে নিশ্চিত হয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানাই। ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে একটি মাইকোবাসে করে হাসির চাচা শেখ হিরু ও তিনজন পুলিশ সদস্য ময়মনমসংহের নান্দাইল থানায় যান। শেখ হিরু বলেন, ২৫ সেপ্টেম্বর ভোর ৬টার দিকে তারা নান্দাইল থানায় পৌছায়।

নান্দাইল থানার পুলিশ সদরপুর থানার পুলিশের কাছ থেকে বার্তা পেয়ে নান্দাইল পুলিশ আগে থেকেই হাসিকে থানায় নিয়ে এসেছিল। পরে হাসিকে নিয়ে আমরা সদরপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে দুপুর ২টার দিকে সদরপুর থানায় ফিরে আসি। হাসি বেগমের মা সালমা বেগম জানান, মোতালেব বিয়ের তিন বছর পর দুবাই যান। গত ১১ মাস আগে ফিরে আসেন শূণ্য হাতে। যাদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন বাড়ি[তে এসে জমি বিক্রি করে সে দেনা শোধ করতে হয়েছে।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মামুন আল রশিদ বলেন, হাসি বেগমকে উদদ্ধার করার পর তার বাবা হাসিবেগমের স্বামীর নামে যে হত্যা মামলা করেছিল সেটি ফাইনাল প্রতিবেদন দেওয়া হয়। হাসি বেগম জানিয়েছে তিনি নান্দাইলের ওই তরুণকে বিয়ে করেছেন। কিন্তু এ বক্তব্য গ্রহযোগ্য নয় কেননা তিনি বিবাহিত এবং স্বামীকে তালাক দেননি। হাসি বেগমের সাথে তার স্বামীর বয়সের ব্যবধান অনেক। এ অবস্থায় গত মঙ্গলবার দুপুরে হাসি বেগমকে আদালতের মাধ্য তাঁর বাবার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়ারুল ইসলাম জানান, ২০ সেপ্টেম্বর উদ্ধার হওয়া মৃতদেহটি হাসি বেগমের হিসেবে সনাক্ত করেন তার বাবা ও ফুপি। তাদের মাধ্যমে সনাক্ত হওয়ার পরই ময়না তদন্তের পর মৃতদেহটি তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন হাসি বেগম জীবিত অবস্থায় ফিরে আসায় জানা গেলে ওই মৃতদেহটি হাসি বেগমের নয়। এ অবস্থায় একটি জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে আশার কথা হল পুলিশের পক্ষ থেকে মৃতের ডিএনএ সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ পর্যায়ে আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলাদায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি। পাশাপশি আশে পাশের থানায় নিখোঁজ সংবাদের তথ্য চেয়ে পাঠানো হয়েছে। লাশ সনাক্ত করাসহ এ হত্যা রহস্য উদঘাটনের যথাযথ চেষ্টা করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© পদ্মা বাংলা মিডিয়া হাউজের একটি প্রতিষ্ঠান
Design & Developed By JM IT SOLUTION