স্টাফ রিপোর্টার : ২২ দিনের জন্য ইলিশ মাছ আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে আজ ৭ অক্টোবর শুক্রবার হতে। তবে সরকারী এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই নদীতে ইলিশ মাছ আহরণে নামার খবরও পাওয়া গেছে। বিভিন্নস্থানে গোপনে এসব ইরিশ আহরণ করে গোপনেই বিক্রি হচ্ছে সেগুলো। জেলার সদরপুরে নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনে ভ্রাম্যমান আদালতে অভিযান চালিয়ে জব্দ করা হয়েছে পদ্মা নদী থেকে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আহরণ করা ১১৪ মণ ইলিশ মাছ। জেলেরা বলছেন, উপার্জনের অন্য কোন পথ না থাকায় নিতান্ত পেটের দায়েই অনেকে এভাবে গোপনে ইলিশ ধরতে নামছে।
প্রশাসনের অভিযান হতে বাঁচার জন্য তারা দূরবর্তীস্থানগুলোতে যাচ্ছে নৌকা ও ট্রলার নিয়ে ইলিশ ধরতে। এছাড়া বিভিন্ন উপায় তারা অবলম্বন করছে আগেভাগে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আগমনের খবর জানতে। তবে প্রতিবছর ইলিশ আহরণ নিষেধের সময়সীমার শুরুতে মৎস্য বিভাগের পক্ষ হতে জেলেদের নগদ ও খাদ্য বাদদ চালের প্রণোদনা দেয়া হলেও এবছর তা এখনো জেলের মাঝে পৌছেনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জেলেদের তালিকা প্রেরণ করেছেন। এখনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সেগুলো উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হবে।
তবে বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন খাতের বরাদ্দই কাটছাট হচ্ছে বিধায় এবার জেলেদের কোন নগদ প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে না। তাদের জন্য ২০ কেজি করে চাল দেয়া হবে। আর কয়েকজনকে বিকল্প কর্মসংস্থান বাবদ সাহায্য করা হবে। পদ্মাবেষ্টিত ফরিদপুরের বিভিন্ন উপজেলাতে রয়েছে ইলিশের বিচরণ। অক্টোবরের এই সময়ে মা মাছ গভীর সমুদ্র হতে পদ্মা নদীতে চলে আসে ডিম ছাড়তে। এজন্য এসময়ে নদীতে ইলিশের বিচরণও ভালো পরিমাণ থাকে। আর এই সময়টিকেই অসাধু জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা ইলিশ আহরণের মোক্ষম সময় হিসেবে বেছে নেয়।
ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন ঢালী জানান, জেলার নর্থচ্যানেল, ডিক্রিরচর ও চরমাধবদিয়া পদ্মাবেষ্টিত। এসব এলাকায় প্রচুর ইলিশের সমাগম ঘটে। এই নিষোধাজ্ঞার সময়ে যাতে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে ইলিশ আহরণ করতে না পারে সেজন্য সদর উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে নিয়মিত তদারকি ও ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছি। এছাড়া জেলেদের তালিকা তৈরি করে তাদের প্রণোদনার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের চারটি উপজেলায় ইলিশের প্রণোদনার তালিকাভুক্ত জেলে রয়েছেন ২ হাজার ২৩৭ জন। এরমধ্যে জেলা সদরে ৯৫০ জন, চরভদ্রাসনে ৭২০ জন, সদরপুর উপজেলায় ৪৯১ জন এবং মধুখালীতে ৭৬ জন রয়েছেন। এই জেলেদের মাঝে প্রণোদনা প্রদানের জন্য ইতোমধ্যে তালিকা করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এর বাইরে ৪৫ জনের একটি তালিকা করা হয়েছে যাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য গরুর বাছুর প্রদান করা হবে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সরকার জানান, এবছর তালিকাভুক্ত এসব জেলেদের মাঝে প্রণোদনা বাবদ যে চাল বরাদ্দ পাওয়া যাবে তা সমহারে বন্টন করে দেয়্ াহবে। সাধারণত প্রতিবছর ২০ কেজি করে চাল দেয়া হয়। এর বাইরে বিকল্প কর্মসংস্থান বাবদ ৪৫ জনের তালিকা করা হয়েছে। তাদেরকে বাছুর দেয়া হবে। তবে এবছর জেলেদের কোন নগদ প্রণোদনা দেয়া হবেনা বলে তিনি জানান। তিনি জানান, নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনেই জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে পরিদর্শন করা হয়েছে।
এছাড়া ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) তানিয়া আক্তারের নেতৃত্বে গাবতলা, কালীখোলা ও বাবুরচর বাজারে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালিয়ে ১শত ১৪ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়েছে। পরে জব্দকৃত মাছ বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। এসময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম মাহমুদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ইলিশ মাছ বেচাকেনার দায়ে এক ব্যবসায়ীকে একহাজার টাকা জরিমানা করা হয়।