বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে রিপা বেগম (২৫) নামের এক গৃহবধুকে নির্যাতন করে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে।
নির্যাতনের শিকার নিহত গৃহবধু রিপা বেগমের স্বামী রুপাপাত ইউনিয়নের সূর্য্যক গ্রামের মো. মাহবুর শেখ।
স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা যায়, মাহবুর ও তার মা ওই গৃহবধুর সাথে প্রায় ঝগড়া করে মারধর করতো। কিছু দিন আগেও মারধর করে ওই গৃহবধুকে তাঁর বাবার বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও একটি ছাগল আনতে বাধ্য করেন।
গৃহবধুর মা বাবা অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়েকে ওর স্বামী ও শাশুড়ি প্রায়শই মারধর করে টাকা পয়সা আনতে বাধ্য করতেন। কিছু দিন আগেও টাকা ও ছাগল দিয়ে ওর শ্বশুর বাড়িতে পাঠিয়ে ছিলাম। আমার মেয়ের সাথে ওর স্বামী ও শাশুড়ি ঝগড়া করে মারধর করে। এ সময় তার পেটে লাথি মেরে গুরুত্বর অসুস্থ অবস্থায় ওর স্বামী ও শাশুড়ি আমার মেয়েকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে মিথ্যা অভিনয় করে ডক্টরকে বলেন বিষ পান করেছে। ডাক্তার আসার আগে আমার মেয়ে মারা যায়। মেয়ের লাশ হাসপাতালে রেখে ওর স্বামী ও শাশুড়ি পালিয়ে চলে যায়। ওই গৃহবধুর মা বলেন, মেয়ের লজ্জাস্থান দিয়ে রক্ত বের হয়েছে।
হসপিটালে প্রত্যক্ষদর্শী এক মহিলা বলেন, হসপিটালে ওই মহিলাকে আনার পরে জীবিত ছিল। আমি তার মুখে হাত ও জিহ্বা দিয়ে মুখের ভেতর চেক করে দেখেছি মুখে কোন বিষ বা ঔষুধের গন্ধ নেই। আমার মনে হয় কোন প্রকার বড় ধরণের আঘাত দেয়ার পর মারা গেছে।
নিহত গৃহবধুর স্বামীকে তাদের বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায়নি। তার দুটি মোবাইলে ০১৯৬৬৩৫৮৯৭৪- ০১৯৪৪৯৭৯৩৯১ নাম্বারে একাধিক বার কল করেও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
পুলিশের উপপরিদর্শক উত্তম কুমার বলেন, খবর পেয়ে হসপিটালে গিয়ে লাশের সুরত হালে প্রাথমিক অবস্থায় কোন প্রকার আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহত গৃহবধুর লাশ ফরিদপুর মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। সেখান থেকে ময়নাতদন্ত রিপোর্টের পর আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।