স্টাফ রিপোর্টার : ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ডা. জাকির হোসেন (৩০) নিখোঁজের পাঁচদিনেও সন্ধান মিলেনি। আজ রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিখোঁজ রহস্যের কোন কুলকিনারা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন আগে হাসপাতালে একটি মেডিকেল সার্টিফিকেট দেখানোকে কেন্দ্র করে সাদা পোশাকধারীদের সাথে তার মতভেদ ঘটে। এসময় তারা তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। এরপর সাদা পোষাকধারীদের সার্টিফিকেট না দেখানোতে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাও তাকে ভর্ৎসনা করেন বলে জানা গেছে।
ডা. জাকির হোসেন ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্েেস একজন মেডিসিনের ডাক্তার। তার স্ত্রী সখিনা আক্তার কলিও একজন চিকিৎসক। বর্তমানে ঢাকার বিএসএমএমসি হাসপাতালে কর্মরত। তাদের দুজনের বাড়ি মানিকগঞ্জে। ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহসিনউদ্দিন ফকির এ ঘটনায় থানায় একটি জিডি করেছেন। জিডিতে তিনি জানান, গত মঙ্গলবার ৮ নভেম্বর দুপুর ২টা পর্যন্ত ডা. জাকির হাসপাতালে ডিউটিতে ছিলেন। পরেরদিন বুধবার ভোর পাঁচটার দিকে তাকে মোবাইলে একটি ম্যাসেজ পাঠিয়ে ডা. জাকির জানান যে, তার শাশুড়ি খুবই অসুস্থ। এজন্য তাকে জরুরিভিত্তিতে মানিকগঞ্জে বাড়িতে যেতে হচ্ছে।
এরপর সকালে তাকে মোবাইল করলে সেটি বন্ধ পাই। একই ম্যাসেজ তিনি তার সহকর্মী ডা. মঈনউদ্দিন আহমেদ সেতুকেও দেন। ডা. মোহসিন জানান, পরেরদিন বৃহস্পতিবার রাতে তার স্ত্রী ডা. কলি ফোন করে জানান যে তিনি দুইদিনযাবদ তার স্বামী ডা. জাকির হোসেনকে মোবাইল ফোনে পাচ্ছেন না। আর মোবাইলে চার্জ হচ্ছেনা বলে দুইদিন তার ফোন বন্ধ থাকবে বলে নিখোঁজের আগে স্ত্রীকে একটি ম্যাসেজও পাঠিয়েছিলেন। এসব জানার পর চিন্তিত হয়ে ডা. জাকিরের স্ত্রীর সাথে আলোচনার পর তারা রাতেই বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে বৃহস্পতিবার রাতে ভাঙ্গা থানায় জিডি করেন বলে জানান তিনি।
এব্যাপারে নিখোঁজ ডা. জাকিরের শ্যালক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের ছাত্র মোঃ বায়েজিদ বলেন, উপজেলা কোয়ার্টার জামে মসজিদে মঙ্গলবার রাতে এশার নামাজ আদায় করেন তার ভগ্নিপতি। এরপর নিখোঁজ হন। তিনি জানান, নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন আগে সাদা পোষাকে দুজন ব্যক্তি হাসপাতালে ডা. জাকিরের কক্ষে এসে একটি মামলার মেডিকেল সার্টিফিকেট দেখতে চান। তবে তিনি তাদের এজন্য অফিসিয়াল প্রসিডিওর মেইনটেইন করে আসতে বলেন। এনিয়ে তাদের মাঝে মতদ্বৈততা হয় এবং একপর্যায়ে তারা ডা. জাকিরকে শক্তভাবে জোড়াজুড়ি (বাইফোর্স) করেও সার্টিফিকেট দেখতে না পেয়ে তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন।
বায়েজিদ বলেন, এ ঘটনার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহসিন সাদা পোশাকধারীদের ওই মামলার সার্টিফিকেট না দেখানোয় ডা. জাকিরকে ভর্ৎসনা করেন। বিষয়টি ময়মনসিংহে ডা. জাকির তার এক বন্ধুকে জানিয়েছেন। নিখোঁজের এ ঘটনায় ডা. মোহসিনের হাত থাকতে পারে বলে তার সন্দেহ। অবশ্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহসিনউদ্দিন ফকির এ অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, তার পরিবারের সাথে আলোচনার পরেই থানায় জিডি করেছি। পুলিশ ঘটনা তদন্ত করছে।
এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিয়ারুল ইসলাম বলেন, ডা. জাকিরের তার মোবাইল ট্র্যাকিং করে তার সন্ধান জানার চেষ্টা করছি। তবে রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোন সন্ধান মিলেনি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার সরকারি কোয়ার্টার তল্লাশি করা হয়েছে। কোনো আলামতও পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত ব্যাগটিও বাসায় রয়েছে। তার সন্ধান জানতে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।